সুতরাং বিষয়টি খুবই মারাত্মক এবং আমরা এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন
আমরা কাউকে হয়রানির পক্ষে নই এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন দেশে কোনো গণগ্রেপ্তার হয়নি
আমরা কাউকে হয়রানির পক্ষে নই
কারণ গত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় আমরা নিজেরাই হয়রানির শিকার হয়েছি
তিনি বলেন জনগণের জানমালের রক্ষা করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব
যখন হরতালের আগে গাড়ি পেড়ানোসহ জ্বালাও-পোড়াও হচ্ছিল তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়
সুতরাং বাছাই করে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি
তিনি বলেন হরতালের দিন আতঙ্কে কিছু লোক গাড়ি বের করেনি
এই হরতাল স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না
খালেদা জিয়ার বাড়ি এবং তাঁর দুই ছেলেকে দুর্নীতি থেকে রক্ষা করা জাতীয় কোনো বিষয় নয়
সৈয়দ আশরাফ বলেন আমি বিরোধী দলকে বলব সংসদে আসুন জনগণের দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলুন আমরা সব বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত
এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন বিএনপি বলছে হরতালে তারা দলীয় কার্যালয় থেকে বের হতে পারেনি কিন্তু আমরা তো তাদের শাসনামলে দলীয় কার্যালয়ে যেতেই পারিনি
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি তাঁর তিন দেশ সফর সম্পর্কে অবহিত করেন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বৈঠকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেন
প্রধানমন্ত্রী আজ-কালের মধ্যে এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলন করবেন
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় আগামী ১০ ডিসেম্বর রাজশাহী ও ১১ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় দলীয় প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ে কর্মশালা হবে
বিজয়ের মাস
মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি গণমাধ্যম
২৬ মার্চ ১৯৭১
বিবিসি লন্ডন
সান্ধ্যকালীন ইংরেজি সংবাদের অংশবিশেষের অনুবাদ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান বেতার ভাষণে কঠোর ভাষায় তাঁর যা করণীয় সে সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়েছেন শেখ মুজিবকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন যে আওয়ামী লীগ কার্যত পূর্ব পাকিস্তানকে নিয়ন্ত্রণ করছে তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন
প্রেসিডেন্ট সারা দেশে রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন এবং পত্রপত্রিকার ওপর সেন্সর আরোপ করেছেন
পূর্বাঞ্চলীয় রাজধানী ঢাকায় অবস্থানরত মার্কিন কনসাল জেনারেল জানিয়েছেন উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্যাংক ব্যবহার করা হচ্ছে
পূর্ব পাকিস্তানের একটি গোপনীয় বেতারের সংবাদ উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে যে বিভিন্ন স্থানে সহিংস লড়াই শুরু হয়ে গেছে
পূর্ববাংলার সেনাসদস্যরা পুলিশ ও সশস্ত্র নাগরিকদের সঙ্গে যোগ দিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছে
১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১—স্বাধীনতা লাভের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে—পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান তাঁর ডায়েরিতে লিখছেন আমাদের রেডিও ও সংবাদপত্র জানাচ্ছে শত্রুর মোকাবিলা করে তাদের রুখে দেওয়া হয়েছে
আর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে ঢাকা শহরের চারদিকে ফাঁসের দড়ি আঁটসাঁট হয়ে আসছে
অর্থাৎ অবরুদ্ধ ঢাকার কেবল পতনের যেটুকু বাকি
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সকালে-সন্ধ্যায় বিবিসির মার্ক টালি কী বলছেন তা শোনার জন্য উৎকণ্ঠিত হয়ে থাকত সাড়ে সাত কোটি মানুষ
যাঁরা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন উৎকণ্ঠা তাঁদের যাঁরা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছেন উৎকণ্ঠা তাঁদেরও কম নয়—আসলে পূর্ব পাকিস্তানে কী ঘটছে সত্যিকারের খবরটি দিতে পারবেন মার্ক টালি
শুধু কি মার্ক টালি
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নেমেছেন সিডনি শনবার্গ অ্যান্টনি ম্যাসকারেনহাস সাইমন ড্রিং নিকোলাস টোমালিন ক্লেয়ার হলিংওয়ার্থ মার্টিন ওলাকট জন পিলজার ডেভিড লোশাক পিটার হ্যাজেনহার্স্ট ও আরও অনেকে
ক্ষমতার পালাবদল কিংবা ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে যা-ই ঘটুক দেখার জন্য মার্চের শুরু থেকেই বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের আগমন ঘটছিল
২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী যখন হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠল তার সাক্ষী হয়ে রইলেন কজন বিদেশি সাংবাদিক
৩৫ জন বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিকে ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময়ের জন্য আটকে রাখা হয় ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে
২৭ মার্চ বলপ্রয়োগ করে পূর্ব পাকিস্তান থেকে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়
২৮ মার্চ ১৯৭১ নিউইয়র্ক টাইমস লিখছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হুমকি দিয়েছে হোটেল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করা হলে সাংবাদিকদের গুলি করা হবে
সাংবাদিকেরা হোটেল থেকেই দেখতে পেয়েছেন পূর্ব পাকিস্তানি বিদ্রোহীদের সমর্থক নিরস্ত্র বেসামরিক লোকজনকে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা গুলি করছে
বহিষ্কারের প্রক্রিয়ায় করাচির উদ্দেশে বিদেশি সাংবাদিকদের উড়োজাহাজে তোলার আগে নিউইয়র্ক টাইমস-এর সংবাদদাতা সিডনি শনবার্গসহ অন্য সাংবাদিকদের তল্লাশি করা হয়
তাঁদের নোটবই ছবির ফিল্ম ও ফাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়
বহিষ্কৃত সাংবাদিকেরা যুক্তরাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাজ্য কানাডা ফ্রান্স জাপান ও রাশিয়ার সংবাদপত্রসহ অন্যান্য গণমাধ্যমে কর্মরত ছিলেন
বহিষ্কারের কারণ জানতে চাওয়া হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা বলেন এটা আমাদের ব্যাখ্যা করার কিছু নেই এটা আমাদের দেশ
লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর সাংবাদিক সাইমন ড্রিং ঢাকা এসেছিলেন ৬ মার্চ ১৯৭১
বন্দুকের মুখে যখন বিদেশি সাংবাদিকদের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আটক করা হচ্ছিল সাইমন ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের আলোকচিত্রী মাইকেল লরেন্ট হোটেলের ছাদে আশ্রয় নিয়ে তাৎক্ষণিক বহিষ্কারের হাত থেকে রেহাই পান এবং দুই দিন অগ্নিদগ্ধ শহরের ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন
তল্লাশির হাত থেকে তিনি তাঁর নোটবইটি রক্ষা করতে সমর্থ হন
পরে করাচি হয়ে ব্যাংককে এসে সেনাবাহিনীর হত্যাকাণ্ডের বিবরণ পাঠাতে শুরু করেন
৩০ মার্চ ডেইলি টেলিগ্রাফ-এ প্রকাশিত ট্যাংকস ক্রাশ রিভোল্ট ইন পাকিস্তান বিশ্বকে আরও বিশদভাবে জানিয়ে দিল পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী কী করছে
৫ এপ্রিল নিউজউইক-এ প্রকাশিত হলো দীর্ঘ প্রতিবেদন পাকিস্তান প্লাঞ্জেস ইনটু সিভিল ওয়ার ১২ এপ্রিল টাইম ম্যাগাজিন পূর্ব পাকিস্তানে হত্যাযজ্ঞ ও গণকবরের বিবরণ প্রকাশ করল
১৯ এপ্রিল নিকোলাস টোমালিন ডেইলি টেলিগ্রাফ-এ লিখলেন ফার ফ্রম দ্য হলোকস্ট
ভারতের দিল্লিভিত্তিক দৈনিকগুলোসহ সব রাজ্যের পত্রপত্রিকার প্রধান আলোচ্য হয়ে উঠল পূর্ব পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও গণনির্যাতন
এমনকি সুদূর সুইডেনের এক্সপ্রেশন লিখল ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল হজম করার মানসিকতা পাকিস্তানি শাসকদের ছিল না তাই উল্টো সামরিক বাহিনী লেলিয়ে দিয়েছে
এটা স্পষ্ট যে এই পদ্ধতিতে কখনোই পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের পুনর্মিলন ঘটানো সম্ভব নয়
বৈশ্বিক রাজনীতিতে রাষ্ট্র ও সরকার যে অবস্থানই গ্রহণ করুক না কেন মুক্ত সাংবাদিকতা জনগণকে সঠিক খবরটিই দিয়েছে
পাকিস্তানের মিত্র হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সরকার পূর্ব পাকিস্তানে নারকীয় সামরিক হস্তক্ষেপকেও পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে এড়িয়ে যেতে চেয়েছে
কিন্তু সব মার্কিন পত্রিকা পাকিস্তানের বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের নিন্দা করেছে পাকিস্তানকে অস্ত্র সরবরাহ থেকে বিরত রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ওপর ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করেছে
চীনের পত্রিকায় ইয়াহিয়া খানকে বলা হয়েছে স্বৈরাচারী চেঙ্গিস খান
সিঙ্গাপুরের সরকারপ্রধান যেখানে মেপে মেপে কথা বলেছে সেখানে সে দেশের জাতীয় পত্রিকা দ্য নিউ নেশন বলেছে পূর্ব পাকিস্তানে নৃশংস হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতেই হবে—অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্বের পাণ্ডিত্যপূর্ণ ব্যাখ্যা শুনিয়ে বিশ্ববিবেকের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না
ওয়াশিংটন ডেইলি নিউজ লিখেছে পাকিস্তানের সঙ্গে থাকা কিংবা নিশ্চুপ থাকা—দুটোর মানেই আরও বাঙালি নিধনে সহায়তা করা
এমনকি ঘানার একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা দ্য পালভার উইকলি লিখেছে ইয়াহিয়া খান সংখ্যালঘুর একচেটিয়া শাসন কায়েম করতে চান
বিশ্বের শান্তিপ্রিয় দেশগুলোর উচিত সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ত্বরান্বিত করা
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে বিদেশি গণমাধ্যমের কার্যক্রমকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়
প্রথম পর্যায় ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৪ মার্চ ১৯৭১
দ্বিতীয় পর্যায় ২৫ মার্চ ১৯৭১ থেকে ২ ডিসেম্বর ১৯৭১
তৃতীয় পর্যায় ৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে আরও একটি পর্যায় বাংলাদেশ পুনর্গঠনপর্ব বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে
বিদেশি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন মন্তব্য সম্পাদকীয় বিশ্লেষণী নিবন্ধ সাক্ষাৎকার ইত্যাদিতে কয়েকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে

প্রথম পর্যায়
ক 	আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ জনতার বিজয় হিসেবে উল্লিখিত হয়েছে
খ 	দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে আহ্বান জানানো হয়েছে
গ 	পাকিস্তানের সংহতি কতটা ধরে রাখা যাবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে
ঘ 	ছয় দফাতেই কার্যত পাকিস্তানের খণ্ডীকরণের বীজ চিহ্নিত রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে
ঙ 	পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রধান জুলফিকার আলী ভুট্টোর অনমনীয়তার নিন্দা করা হয়েছে এবং এর পরিণতিতে পাকিস্তান ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার দায় ভুট্টোর ওপর বর্তাবে বলে সতর্ক করা হয়েছে
দ্বিতীয় পর্যায়
ক সেনাবাহিনীর ঘৃণ্য হত্যাযজ্ঞের নিন্দা করা হয়েছে
খ সামরিক সমাধান ব্যর্থ হয়েই থাকে এই সতর্কবার্তা প্রকাশ করে বলা হয়েছে বেয়নেটের সাহায্যে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই
গ 	সর্বকালের সর্ববৃহৎ শরণার্থী সমস্যা সৃষ্টির দায় কেবল পাকিস্তানের নয় পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কিত সব দেশের
ঘ বিশ্ব রাজনীতিতে কোনো নির্দিষ্ট মোর্চাভুক্ত হলেই কেবল মোর্চাভুক্ত অন্যান্য দেশের সহানুভূতি পাওয়া যাবে অন্যথায় মানবতা ভূলুণ্ঠিত হলেও বিশ্ববিবেক নির্বাক থাকবে তা হতে পারে না
ঙ	মুক্তিবাহিনী ব্যাপক প্রচার লাভ করে
চ 	গণমাধ্যমই ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারে সক্রিয় ভূমিকা রাখে
ছ 	বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রধান এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা বিদেশি গণমাধ্যমে প্রচুর জায়গা পান
জ গণমাধ্যমের পূর্ব পাকিস্তান-সম্পৃক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী ভূমিকাকে নমনীয় করে অস্ত্র রপ্তানিতে বাধা দেয় এবং এমনকি সপ্তম নৌবহর নিয়ে এত বেশি প্রচারণা চালায় যে নীরবেই তা অকার্যকর রেখে প্রত্যাহার করা হয়
ঝ শেখ মুজিবুর রহমানের বিচারকে প্রহসন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে
তাঁকে বলা হয় পাকিস্তানি জনগণের ট্র্যাজেডির প্রতীক
ঞ	শরণার্থীর মানবিক সমস্যা মিটে গেলে বাংলাদেশ টেকসই রাষ্ট্র হবে কি না সে প্রশ্নও তোলা হয়

তৃতীয় পর্যায় 
ক 	ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের এই সময়টি যুদ্ধের দায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও সামরিক বাহিনীর ওপর অর্পণ করা হয়
খ 	পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ হিসেবে স্বীকৃতিদানের সোচ্চার আবেদন গুরুত্বসহ প্রকাশিত হয়
গ 	যুদ্ধে সম্মিলিত বাহিনীর সাফল্য যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হয় এবং যুদ্ধে নিশ্চিত বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণীও করা হয়
ঘ 	ঢাকার পতন ও নিয়াজির আত্মসমর্পণ বিশ্বের সর্বত্র শীর্ষ সংবাদ হিসেবে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়
ঙ 	শরণার্থীদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন সহায়তার জন্য সংবাদমাধ্যম স্বউদ্যোগে সহায়তার আহ্বান জানায়
পত্রপত্রিকায় বিরুদ্ধ প্রচারণাও কিছু হয়েছে
জেদ্দার দৈনিক আল বিলাদ লিখেছে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বিচ্ছিন্নতাবাদী মুসলিম বিশ্বের ক্ষতি সাধন করে ইসরায়েলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সাহায্য প্রার্থনা করেছে তবে আশার কথা যে তারা সাহায্য পায়নি
তবে এ ধরনের সংবাদ খুব কমই প্রকাশিত হয়েছে
তার কোনো প্রভাবও পড়েনি
আধুনিক সমরবিজ্ঞান মনে করে যুদ্ধের একটি বড় অংশ প্রকৃতপক্ষে গণমাধ্যমেই সংগঠিত হয়
বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে পাশে পেয়েছে

 এম এ মোমেন প্রাবন্ধিক ও কথাসাহিত্যিক
